নতুন ফিটনেস পরীক্ষায় অনেক বাংলাদেশি ক্রিকেটার ব্যর্থ

বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের ট্র্যাক ১৬০০ মিটার দৌড়ের ফিটনেস পরীক্ষা দিচ্ছেন।
ফিটনেস পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটাররা।

বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের জন্য নতুন ফিটনেস পরীক্ষা নিয়ে এসেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। আগের মতো ইয়ো-ইয়ো বা বিপ টেস্ট না করে এবার ১৬০০ মিটার দৌড় এবং ৪০ মিটার স্প্রিন্টের মাধ্যমে ক্রিকেটারদের শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছে। এই নতুন পরীক্ষা গত রবিবার জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

১৬০০ মিটার দৌড়ে অনেক ক্রিকেটার প্রত্যাশা অনুযায়ী পারফরম্যান্স করতে পারেননি। তবে সবচেয়ে চমক দেওয়া ছিলেন নাহিদ রানা। মাত্র ৫ মিনিট ৩১ সেকেন্ডে তিনি ১৬০০ মিটার দৌড় শেষ করে সেরা হন। তার পরেই দ্বিতীয় হয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি ৬ মিনিট ১ সেকেন্ডে দৌড় শেষ করেছেন। তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি থেকে অবসর নেওয়া মুশফিকুর রহিম, যিনি ৬ মিনিট ১০ সেকেন্ড সময় নিয়েছেন।

অন্যদিকে, পেসার মুস্তাফিজুর রহমান, তাসকিন আহমেদ, তানভীর ইসলাম এবং শামীম পাটোয়ারী প্রায় আট মিনিট সময় নিয়ে এই দৌড় শেষ করেছেন। তাদের মতো বেশ কয়েকজন ক্রিকেটার ফিটনেস পরীক্ষায় সফল হননি।

দ্বিতীয় গ্রুপে ১৫ জন ক্রিকেটারের মধ্যে তানজিম হাসান সাকিব ৫ মিনিট ৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করে প্রথম হয়েছেন। তারপরে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে ছিলেন যথাক্রমে শাহাদাত হোসেন দিপু ও পারভেজ হোসেন ইমন।

২৫ সদস্যের প্রাথমিক ফিটনেস ক্যাম্পের মধ্যে ছয়জন ক্রিকেটার এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি। তাদের মধ্যে ছিলেন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক লিটন কুমার দাস এবং তৌহিদ হৃদয়। এছাড়া ‘এ’ দলের অস্ট্রেলিয়া সফরে থাকা নুরুল হাসান সোহান, সাইফ হাসান, আফিফ হোসেন ও মাহিদুল ইসলাম অঙ্কনও পরীক্ষায় ছিলেন অনুপস্থিত।

টিম ম্যানেজমেন্টের একজন সদস্য  জানান, “রানার পারফরম্যান্স অসাধারণ ছিল। আরও কয়েকজন ভালো করেছে, তবে অনেকেই আমাদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি।”

এখনো চলমান ফিটনেস ক্যাম্প শেষে ২০ আগস্ট থেকে স্কিল ট্রেনিং ক্যাম্প শুরু হবে সিলেটে। আগামী নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ঘরের মাঠে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে এশিয়া কাপের আগে এই ফিটনেস ও স্কিল ট্রেনিং দলে নতুন উদ্দীপনা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ক্রিকেটে নতুন ফিটনেস পরীক্ষা শুরু হলেও প্রত্যাশিত মান পূরণে এখনও অনেক খেলোয়াড়কে আরও পরিশ্রম করতে হবে। এটা নিশ্চিত, ক্রিকেটারদের জন্য কঠোর পরিশ্রম ছাড়া এগিয়ে যাওয়া কঠিন। আগামী ম্যাচ ও টুর্নামেন্টে ফিটনেসের উন্নতি দেখিয়ে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ রয়েছে তাদের সামনে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

নবীনতর পূর্বতন